শরণার্থীর চোখে পৃথিবী

শরণার্থীর চোখে পৃথিবী

শরণার্থীর চোখে পৃথিবী

শরণার্থীর চোখে পৃথিবী

চোখে তার কুয়াশা, ঘুম নেই বহুকাল, 

ঘরে ফিরার গল্পও এখন শুধু চাল। 

পায়ের নিচে মাটি নয়, কাঁটার রেখা, 

চোখের জল দিয়েই লিখে যন্ত্রণা দেখা।

 

নদীর ওপার মানে ‘দেশ’, পিছে আগুন, 

আকাশ দেখে জিজ্ঞেস করে—“তুমি কি আপন?” 

মায়ের কোলে শিশু কাঁদে দুধ নয় আশায়, 

দেয়ালের ওপাশে কেউ বলে “ওরা পরদেশি”।

 

চাল নেই, ছাউনিও না, তবু সে বাঁচে, 

মনের ভিতর ছবি আঁকে ‘একখণ্ড শান্তি’চে। 

স্বপ্নে তার খেলা, পিঠে ব্যাগ নয় গান, 

একদিন ফিরবে ঘরে—এইটুকু জান।

 

তাকে কেউ বোঝে না, তবু সে বলে— 

"আমি মানুষ", তার মাঝে যন্ত্রণা জ্বলে। 

জাতপাত জানে না তার ক্ষুধার কান্না, 

ধর্মের আগে সে খোঁজে একটু তামান্না।

 

পৃথিবী, শুনছো? তোমার দায় আছে তার, 

তুমি তার মতো হলে তবেই তুমি আপার। 

ভালোবাসা দাও তাকে, নয়ত লজ্জা নাও, 

শরণার্থীর চোখে তুমি নিজেকে চেনাও।